<bgsound src="flash/guni.wav">
 
Links
 
এ পর্যন্ত পড়েছেন
জন পাঠক
 
সর্বমোট জীবনী 198 টি
সাহিত্য ( 33 )
শিল্পকলা ( 18 )
সমাজবিজ্ঞান ( 7 )
দর্শন ( 1 )
শিক্ষা ( 16 )
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ( 8 )
সংগীত ( 8 )
পারফর্মিং আর্ট ( 6 )
প্রকৃতি ও পরিবেশ ( 2 )
গণমাধ্যম ( 4 )
মুক্তিসংগ্রাম ( 67 )
চিকিৎসা বিজ্ঞান ( 3 )
ইতিহাস গবেষণা ( 0 )
স্থাপত্য ( 1 )
সংগঠক ( 6 )
ক্রীড়া ( 6 )
মানবাধিকার ( 2 )
লোকসংস্কৃতি ( 0 )
নারী অধিকার আন্দোলন ( 2 )
আদিবাসী অধিকার আন্দোলন ( 1 )
যন্ত্র সংগীত ( 0 )
উচ্চাঙ্গ সংগীত ( 0 )
আইন ( 1 )
আলোকচিত্র ( 3 )
সাহিত্য গবেষণা ( 0 )
উপদেষ্টা পরিষদ
গুণীজন কর্মসূচির ইতিহাস
গুণীজনের পেছনে যাঁরা
গুণীজন দল
Online Exhibition
New Prof
বশীরআলহেলাল মারিনো রিগন শাকুর শাহ
 
 

GUNIJAN-The Eminent
 
বিনোদবিহারী চৌধুরী
 
 
trans
সেদিন শনিবার অমাবস্যার রাত। চট্টগ্রামের অভয় মিত্র শ্মশানঘাট ভীষণ ভীতসঙ্কুল জায়গা হিসেবে পরিচিত। দিনের বেলায় যেতেও লোকজন ভয় পায়। অথচ বিনোদবিহারী চৌধুরীকে আদেশ দেওয়া হয়েছিল এমনই একটি জায়গায় মাস্টারদার সঙ্গে দেখা করার জন্য। সবার সঙ্গে তিনি দেখা করেন না। তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার। সুতরাং বিপ্লবী মন্ত্রে দীক্ষিত ১৯ বছরের টগবগে বিনোদবিহারী চৌধুরী হাজির হলেন অভয়মিত্র শ্মশানঘাট। "বহু দিনের সংস্কার ছিল শ্মশানে নাকি নানা রকম ভূত-প্রেতের আনাগোনা থাকে৷ তাই কিছুটা ভয় পাচ্ছিলাম। এদিক ওদিক হাঁটছিলাম, হঠাত্‍ করেই পিঠে হাতের স্পর্শ পেয়ে ভীষণ চমকে গেলাম, ফিরে তাকিয়ে দেখি এক ভদ্রলোক, দেখতে কিছুটা খাটো, সাদা ধুতির ওপর সাদা পাঞ্জাবি অন্ধকারে ফুটে উঠেছিল। তখন রাত ৮টার মতো বাজে। আমি মুগ্ধ চোখে তাঁকে দেখতে লাগলাম, ইনিই তাহলে বিখ্যাত বিপ্লবী সূর্যসেন, সবাই যাকে মাস্টারদা বলে ডাকে। সামনাসামনি তাঁর সঙ্গে এটাই আমার প্রথম সাক্ষাতে তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, কিরে ভয় পেয়েছিস? আমি ভয়ের কথা স্বীকার করে নিলাম। সত্যিই আমি ভয় পেয়েছিলাম। তারপর তিনি আমাকে নানা রকম প্রশ্ন করতে লাগলেন। আমি কেন বিপ্লবী দলে আসতে চাই। বিপ্লবী দলে যেন আমি না আসি সে জন্য নানাভাবে বোঝাতেও লাগলেন। কিন্তু আমি তখন দৃঢপ্রতিজ্ঞ, যেকোনো প্রকারেই হোক আমাকে বিপ্লবী দলে ঢুকতে হবে। সুতরাং এক সময় বললাম, আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বিপ্লবী দলে ঢুকে ইংরেজদের অত্যাচার-নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে চাই, আপনি দয়া করে আমাকে নিরুত্‍সাহী করবেন না। শুনে সূর্যসেন স্মিত হাসলেন।"

এরপর সূর্যসেনের সঙ্গে বিনোদবিহারীর আরো বহুবার দেখা হয়েছে। বিনোদ বিহারী বললেন, প্রথম দিনই বুঝেছিলাম এ লোক কঠিন লোক। ইস্পাত কঠিন সংকল্প তার কথাবার্তায়, ব্যক্তিত্ব অসাধারণ, কন্ঠটাও চমত্‍কার। আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো সূর্যসেনের কথা শুনেছিলাম। ভরাট কন্ঠে তিনি আমাকে বেশ কিছু উপদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তার নেতিবাচক কথায় দমে যাননি বিনোদ বিহারী। এক সময় সূর্যসেন সম্মত হলেন তাকে দলে নিতে। এভাবেই বিপ্লবীদের খাতায় নাম উঠল আমার- বললেন বিনোদ বিহারী।

সেদিনের সেই বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরীর বয়স আজ ৯০- এর উপর। চট্টগ্রামের মোমিন রোডের বাড়িতে বসে বলছিলেন আগুনঝরা সেইসব দিনের কথা। জীবনের সিংহভাগ সময় তাঁকে কাটাতে হয়েছে বিপ্লবী কর্মকান্ডের মধ্যে৷ যে বাড়িতে আজ ৬২ বছর ধরে বসবাস করছেন, সেখানে যেদিন তাঁর নবপরিণীতা স্ত্রী বিভা চৌধুরীকে তোলেন; সেদিনই তিনি ব্রিটিশ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। বিভিন্ন সরকারের আমলে তাকে সইতে হয়েছে আরো অনেক নিগ্রহ। কিন্তু কখনো দমে যাননি তিনি।

এই বর্ষীয়ান বিপ্লবী নেতা শ্রী বিনোদ বিহারী চৌধূরী ১৯১১ সালের ১০ জানুয়ারী চট্টগ্রাম জেলার বেয়ালখালি থানায় জন্মগ্রহণ করেন৷

  বাবার হাত ধরে
trans
চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানার রঙামাটি বোর্ড স্কুলে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়েছিল৷ সেখান থেকে তিনি করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়, বোয়ালখালির পি.সি সেন সারোয়ারতলি উচ্চ বিদ্যালয়, চিটাগাং কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চতর শিক্ষা লাভের জন্য যান৷ ১৯২৯ সালে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় কৃতিত্তের সাথে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য তাঁকে বৃত্তি প্রদান করা হয়৷ ১৯৩৪ এবং ১৯৩৬ সালে ব্রিটিশ রাজের রাজপুটনার ডিউলি ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী অবস্থায় থাকার সময় তিনি প্রথম শ্রেণীতে আই.এ এবং বি. এ পাস করেন৷

বাবা কামিনী কুমার চৌধুরী ছিলেন পেশায় উকিল। শৈশবেই বিনোদবিহারী চৌধুরী তাঁর বাবা কামিনী কুমার চৌধুরীর কাছ থেকে পেয়েছিলেন বিপ্লবী চেতনা। '২১-'২২ সালে যখন তিনি ভারতব্যাপী অসহযোগ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন, তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন ১১ বছরের বিনোদবিহারীকে। তখন থেকেই বিনোদবিহারী দেখে এসেছেন কামিনী কুমারকে বিলেতি কাপড় ছেড়ে খদ্দরের কাপড় পরতে। শুধু যে নিজে পরতেন তা-ই না, ছেলেমেয়েদেরও খদ্দরের কাপড় কিনে দিতেন। "মূলত তখন থেকেই আমার মধ্যে স্বদেশ প্রেম জেগে ওঠে"-বললেন বিনোদবিহারী। এটা ছিল বিনোদবিহারীর অন্তরে স্বদেশ প্রেমের বীজ রোপনের প্রথম ধাপ। ১৬ বছর বয়সে বোয়ালখালী থানার সারোয়াতলী উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ার সময় এক দিন বিপ্লবী রামকৃষ্ণের সঙ্গে বিনোদ বিহারীর পরিচয় হয়। মূলত রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের সাহচর্যে এসে বিনোদবিহারী সর্বপ্রথম বিপ্লবী দলে আসেন। শৈশব থেকেই যেহেতু দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ছিলেন তাই তাঁকে দলে টানতে খুব একটা সময় লাগেনি। এর দু-তিন মাসের মধ্যেই তিনি আরো কয়েকজন বিপ্লবী নেতার সান্নিধ্যে আসেন। বিনোদবিহারী মধুসূদন দত্ত, তারকেশ্বর দস্তিদরের মতো বিপ্লবী নেতাদের আস্থাও অর্জন করেছিলেন অল্প সময়েই।

  মাস্টারদা সূর্যসেনের সঙ্গে প্রথম দেখা
trans
বিনোদবিহারী চৌধুরী যখন বিপ্লবী দলে ঢোকেন তখন মাস্টারদা সূর্যসেন জেলে। ১৯৪২ সালে ভারত আইনে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। ৪৮' সালের শেষের দিকে মাস্টারদা জেল থেকে ছাড় পান। তখন তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়া খুব দুরূহ ব্যাপার ছিল। সবার সঙ্গে তিনি দেখাও করতেন না। তারপরও জেল থেকে বের হওয়ার মাস দুয়েক পর একটা সুযোগ এসেছিল মাস্টারদা সূর্যসেনের সঙ্গে দেখা করার। কিন্তু যথাসময়ে সারোয়াতলী গ্রামে না থাকার ফলে বিনোদবিহারী চৌধুরী সেবার হাতের কাছে পেয়েও সুযোগটা হারালেন। সুতরাং অপেক্ষা ছাড়া করার কিছুই ছিল না।

১৯২৯ সালে সেই অপেক্ষার যন্ত্রণাটা শেষ হলো, সেই স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে বিনোদবিহারী চৌধুরী জানালেন, "একদিন হঠাত্‍ আমার এক বিপ্লবী বন্ধু এসে বললেন, আমাকে রাত ৮টায় অভয়মিত্র শ্মশানে যেতে হবে। সেখানে মাস্টারদা আমার সঙ্গে দেখা করবেন। বন্ধুর কথায় আমি ভীষণ আবেগাপ্লুত হলাম। মাস্টারদা সূর্যসেনের সঙ্গে আজ আমার দেখা হবে ভাবতেই গা কেঁপে উঠছিল।" সেই সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা শুরুতেই দেওয়া হয়েছে।

  অস্ত্রাগার লুন্ঠন
trans
অল্প দিনেই বিনোদবিহারী চৌধুরী মাস্টারদা সূর্যসেনের স্নেহভাজন হয়ে উঠেছিলেন। ১৯৩০ সালের ঐতিহাসিক অস্ত্রাগার লুন্ঠনে বিনোদবিহারী চৌধুরী তাই হতে পেরেছিলেন সূর্যসেনের অন্যতম তরুণ সহযোগী। বিপ্লবী দলের সর্বাধিনায়ক মাস্টারদা ১৮ এপ্রিলকে চারটি এ্যাকশন পর্বে ভাগ করেছিলেন। প্রথম দলের দায়িত্ব ছিল ফৌজি অস্ত্রাগার আক্রমণ, দ্বিতীয় দলের ছিল পুলিশ অস্ত্রাগার দখল, তৃতীয় দলের ছিল টেলিগ্রাফ ভবন দখল, চতুর্থ দলের ছিল রেললাইন উত্‍পাটন। বিনোদবিহারী চৌধুরী ছিলেন পুলিশ অস্ত্রাগার দখল করার গ্রুপে। সে দিনের কথা তাঁর মুখেই শোনা যাক -"মাস্টারদা সবাইকে ডেকে যার যার দায়িত্ব বুঝিয়ে ছড়িয়ে পড়তে বললেন। আমি সহ আরো জন-দশেকের দায়িত্ব ছিল দামপাড়া পুলিশ লাইনের আশপাশে রাত ১০ টার মধ্যে উপস্থিত থাকা। আমারা যথাসময়ে মিলিটারী পোশাক পরে উপস্থিত হলাম। সঙ্গে ছিল দুখানা শাবল, আলমারি ভাঙার জন্য। কথা ছিল রাত ১০টায় আরেক গ্রুপ পাহাড়ে উঠে প্রহরীদের আটক করবে এবং বন্দে মাতরম' চিত্‍কার করবে। এই চিত্‍কারের সঙ্গে সঙ্গে আমরা যারা জঙ্গলের চারদিকে ছিলাম তারাও একযোগে বন্দে মাতরম বলে চিত্‍কার করে পাহাড়ে পৌছাব। দুরু দুরু বুকে অপেক্ষা করছি। তখনো জানি না আমাদের মিশন কতটুকু সফল হবে। জীবনের প্রথম এ ধরনের একটি অপারেশন করছি। এমন সময় হঠাত্‍ করে ওপর থেকে বন্দে মাতরম চিত্‍কার শুনলাম। সঙ্গে সঙ্গে আমরা যারা জঙ্গলে ছিলাম তারা একযোগে বন্দে মাতরম চিত্‍কার দিয়ে পাহাড়ের ওপরে উঠে পড়লাম। শত্রুরা আমাদের চিত্‍কার শুনে ভাবল, আমরা হয়তো সংখ্যায় অনেক। ফলে তারা ভয়ে পালালো। পুলিশ লাইনের ভেতরে ঢুকে শাবল দিয়ে আলমারি ভেঙে রাইফেল, বারুদ নিয়ে নিলাম। আর যা প্রয়োজন হবে না তাতে আগুন লাগিয়ে দিলাম। সে দিন আমারা সবাই যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছিলাম বলেই পুলিশ লাইন আক্রমণ সফল হয়েছিল। আমাদের হাতে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র এসেছিল, যা পরে জালালাবাদ যুদ্ধে কাজে লাগানো হয়।

  চার দিনের স্বাধীনতা
trans
'৪৭ সালের ভারত উপমহাদেশ ভাগ, '৭১ সালের চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জনের আগেও আমরা স্বাধীনতা স্বাদ পেয়েছিলাম" হাসতে হাসতে বললেন বিনোদবিহারী চৌধুরী। ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রামে ব্রিটিশ শাসকের সব ঘাঁটির পতনের পর মাস্টারদার নেতৃত্বে চট্টগ্রামে স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বললেন, "১৮ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রামে ব্রিটিশদের মূল ঘঁটিগুলোর পতন ঘটিয়ে মাস্টারদার নেতৃত্বে শহর আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। নেতা-কর্মীরা দামপাড়া পুলিশ লাইনে সমবেত হয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে এবং মাস্টারদাকে প্রেসিডেন্ট ইন কাউন্সিল, ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি, চিটাগাং ব্রাঞ্চ বলে ঘোষণা করা হয় এবং রীতিমতো মিলিটারি কায়দায় কুচকাওয়াজ করে মাস্টারদা সূর্যসেনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তুমুল 'বন্দে মাতরম' ধ্বনি ও আনন্দ-উল্লাসের মধ্যে এ অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।"

'৩০ সালের এ ঘটনার পর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন জঙ্গিরূপ ধারণ করে। সে দিনের এসব বিপ্লবীর দুঃসাহসিক কর্মকান্ড ব্যর্থ হয়নি। চট্টগ্রাম সম্পূর্ণরূপে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত ছিল চার দিন। এই কয়েক দিনে ব্রিটিশ সৈন্যরা শক্তি সঞ্চয় করে বিপ্লবী দলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বিপ্লবী মন্ত্রে দীক্ষিত বিনোদবিহারীরাও বীর বিক্রমে পরে জালালাবাদ পাহাড়ে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিলেন।

  জালালাবাদ যুদ্ধ
trans
জালালাবাদ যুদ্ধ ছিল বিনোদবিহারী চৌধুরীর প্রথম সম্মুখযুদ্ধ। সে দিন তিনি ব্রিটিশ সৈন্যদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন অসীম সাহসিকতায়। গলায় গুলিবিদ্ধ হয়েও লড়াই থামাননি বিনোদ বিহারী চৌধুরী। চোখের সামনে দেখেছিলেন ১২ জন সহকর্মীর মৃত্যু। সে সময়ের এক ঘটনা বললেন তিনি, "আমরা দলে ছিলাম ৫৪ জন, পাহাড়ে লুকিয়ে আছি, তিন দিন কারো পেটে ভাত পড়েনি। পাহাড়ি গাছের দু-একটি আম খেয়ে দিন পার করেছি। এ কারণে বিপ্লবীদের মধ্যে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই একদিন বিকেলে অম্বিকাদা কীভাবে যেন বড় এক হাঁড়ি খিচুড়ি নিয়ে হাজির হলেন। আমরা তো অবাক। ওইদিন সেই খিচুরি আমাদের কাছে মনে হয়েছিল অমৃত।"

এর আগে অস্ত্রাগারে আগুন লাগাতে গিয়ে হিমাংশু সেন বলে এক বিপ্লবী অগ্নিদগ্ধ হয়। তাঁকে নিরাপদ স্থানে রাখার জন্য অনন্ত সিংহ ও গনেশ ঘোষ, আনন্দ গুপ্ত ও মাখন ঘোষাল দামপাড়া ত্যাগ করে। এ ঘটনার পর তত্‍কালীন চট্টগ্রাম জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সমুদ্র বন্দরের বিদেশী জাহাজ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে সৈন্য নিয়ে আমাদের আক্রমণ করে৷ কিন্তু লোকনাথ বলের নেতৃত্বে একদল বিপ্লবী তার যোগ্য জবাব দিয়েছিল। এদিকে অনন্তদা ও গণেশদা হিমাংশুকে রেখে ফিরে না আসাতে মাস্টারদা অন্যান্যের সঙ্গে পরামর্শ করে দামপাড়া ছেড়ে নিকটবর্তী পাহাড়ে আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২১ এপ্রিল তারিখেও তাঁদের সংগে যোগাযোগ না হওয়াতে শেষ রাতের দিকে পুনরায় শহর আক্রমণের উদ্দেশ্যে আমরা ফতেয়াবাদ পাহাড় হতে রওনা হই। মাস্টারদা আমাদের ডেকে বললেন, আমরা যেকোন প্রকারেই আমাদের কর্মসূচি পালন করব। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হলো ভোর রাতে চট্টগ্রাম শহর আক্রমণ করা হবে। বিনোদবিহারী চৌধুরীরা ফতেয়াবাদ পাহাড় থেকে সময়মতো শহরে পৌঁছাতে পারলেন না। ভোরের আলো ফোটার আগেই তাঁদের আশ্রয় নিতে হলো জালালাবাদ পাহাড়ে। ঠিক করা হলো রাতের বেলা এখান থেকেই শহরে ব্রিটিশ সৈন্যদের অন্যান্য ঘাটি আক্রমণ করা হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য বিপ্লবীদের, গরু-বাছুরের খোঁজে আসা রাখালরা মিলিটারি পোশাক পরিহিত বিপ্লবীদের দেখে পুলিশে খবর দেয়। ওই রাখালদের দেখেই সূর্যসেন প্রমাদ গুনেছিলেন৷ তখনই তিনি ধারণা করেন শত্রুর সংগে সংঘর্ষ অনিবার্য। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে তার আশংকা বাস্তব হলো। মাস্টারদা সূর্যসেন লোকনাথ বরকে আসন্ন যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব দিলেন।

সেই সময়ের ঘটনা ৯৩ বছরের বৃদ্ধ বিনোদ বিহারীর মনে এখনো জ্বলজ্বল করে। "লোকনাথদা যুদ্ধের একটি ছক তৈরি করেছিলেন। আমাদের কয়েকজনের দায়িত্ব দিল ত্রিশাল আক্রমণের। যাতে শত্রু কোনক্রমে পাহাড়ে উঠে আসতে না পারে সেজন্য আমাদের যুদ্ধকৌশল কী হবে তা বলে দিলেন। বেলা ৪ টা নাগাদ পাহাড় থেকে দেখলাম সৈন্যবোঝাই একটি ট্রেন জালালাবাদ পাহাড়ের পূর্ব দিকে থামল। ডাবল মার্চ করে ব্রিটিশ সৈন্যরা পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গে দু'পক্ষের তুমুল যুদ্ধ শুরু হলো। শত্রুরা কিছুতেই পাহাড়ের ওপর উঠতে পারছিল না। তারা আমাদের দিকে বৃষ্টির মতো গুলি করছিল। আর আমাদের তেমন কোনো অস্ত্রও ছিল না। এ ছিল এক অসমান যুদ্ধ। এই যুদ্ধে প্রথম শহীদ হলেন হরিগোপাল বল নামে ১৫ বছরের এক বিপ্লবী। শহীদের রক্তে জালালাবাদ পাহাড় সিক্ত হলো। কিছুক্ষণ পরেই দেখতে পেলাম আরেক বিপ্লবী বিধু গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যাচ্ছে। মারা যাওয়ার আগে বিধু বলল, 'নরেশ আমার বুকেও হাদাইছে একখান গুলি। তোরা প্রতিশোধ নিতে ছাড়বি না।' বিধু ছিল মেডিকেল স্কুলের শেষে বর্ষের ছাত্র, খুব রসিক। মারা যাওয়ার আগেও তার রসিকতা কমেনি। একে একে নরেশ রায়, ত্রিপুরা সেনও শহীদ হলো। হঠাত্‍ করে একটা গুলি এসে আমার গলার বাঁ দিকে ঢুকে ডান দিকে বেরিয়ে গেল৷ দু হাতে গুলি ছুঁড়ছিলাম। এক সময় অসহ্য যন্ত্রণায় জ্ঞান হারালাম।" ঘন্টাখানেক অচৈতন্য থাকার পর বিনোদবিহারী চৌধুরী দেখলেন শত্রু-সৈন্যরা সব পালিয়ে গেছে। গলার মধ্যে তখন অসহ্য যন্ত্রনা। ফোঁটা ফোঁটা রক্ত ঝরছে। পরনের লেঙ্গুট খুলে বিপ্লবীরা তার গলায় ব্যান্ডেজ করে দিল। মাস্টারদা সিদ্ধান্ত নিলেন জালালাবাদ পাহাড় ছেড়ে অন্য পাহাড়ের ঘন জঙ্গলে রাতের মতো আশ্রয় নেবেন। পরবর্তীতে কর্মসূচি হবে গেরিলা যুদ্ধ।

  পলাতক জীবন ও কারাগার
trans
"আমার ধীরগতি চলার কারণেই একসময় মাস্টারদার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লাম। তখন লোকনাথদার সাথে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হলো শহরের আশপাশ থেকে গ্রামের ভেতরে প্রবেশ করব সবাই। প্রায় গ্রামে আমাদের দলের ছেলেরা রয়েছে। সেখানে গোপন আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে। লোকদা আমাদের নির্দেশ দিলেন, অপরাহ্ণ পর্যন্ত ধানক্ষেতে লুকিয়ে থাকতে। বিকেল ৪টার দিকে ধানক্ষেত থেকে বের হয়ে আবার হাঁটা ধরলাম। গলায় প্রচন্ড ব্যথা। ক্ষণে ক্ষণে রক্তপাত হচ্ছিল। এক সময় লোকদাকে বললাম-আমি অত্যন্ত দুর্বল বোধ করছি। আমার জন্য আপনাদের পথ চলতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। আমাকে রেখে আপনারা চলে যান। লোকদা বললেন, 'এই অবস্থায় তোমাকে কীভাবে ফেলে যাব।' আমরা যেখানে দাঁড়িয়েছিলাম তার ৪ মাইলের মধ্যেই কুমিরা। তখন ছোট কুমিরা গ্রামে আমার খুড়তুত ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ি। জেঠাশ্বশুর ছিলেন ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট। সেখানেই আমি আশ্রয় নিলাম।"

খুড়তুত ভাইয়ের শ্বশুরবাড়িতে বিনোদবিহারী চৌধুরীর চিকিত্‍সা চলে দীর্ঘদিন। তাদের আদর-যত্নে তিনি সুস্থ হয়ে উঠেন এক সময়। "এরই মধ্যে গান্ধীজির নেতৃত্বে ভারতের সর্বত্রই লবণ আইন ভঙ্গ আন্দোলন শুরু হয়। কুমিরাতেও কংগ্রেস স্বেচ্ছাসেবকদের শিবির স্থাপিত হলো। ফলে আশ্রয়স্থল হারাতে হলো। "আন্দোলন দমনের জন্য গ্রামে পুলিশ বাহিনী ক্যাম্প করে। আর এতে শঙ্কিত হয়ে পড়েন আশ্রয়দাতারা। ঠিক করা হলো, এখান থেকে আমাকে সরিয়ে ফেলা হবে। কারণ আমি এখানে ধরা পড়লে বাড়ির সবাইকে বিপ্লবীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে জেলে পচতে হবে। সমস্যা হলো কীভাবে পালাই। সে সময় আমার বৌদি বাপের বাড়িতে এসেছেন। তাকে পাঠানো হবে চট্টগ্রামের চাকতাই। বৌদির সঙ্গে পরামর্শ করে ঠিক করলাম আমিও বউ সাজব। লাল পাড়ের শাড়ি হাতে শাঁখা ও চুড়ি পরে বউ সাজলাম। বিকেল নাগাদ পৌছে গেলাম চাকতাই। পথে দুবার সৌভাগ্যক্রমে পুলিশ বেষ্টনী পার হয়ে চলে এসেছিলাম।"

কিন্তু এভাবে পালিয়ে বেশিদিন থাকতে পারলেন না। তাঁকে জীবিত বা মৃত ধরে দেওয়ার জন্য ৫০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৩৩ সালের জুন মাসে ব্রিটিশ সরকারের হাতে বিনোদবিহারী চৌধুরী গ্রেপ্তার হন। কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে না পারলেও বেঙ্গল ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট এ্যাক্টে চিটাগাং জেল, কলকাতা প্রেসিডেন্সি জেল, দিউলি ডিটেনশান জেল এবং বাহরামপুর জেলে বিনা বিচারে পাঁচ বছর কারারুদ্ধ রাখা হয় তাঁকে। এরপর তিনি ১৯৩৮ সালে মুক্তি পান কিন্তু এটি তার প্রকৃত মুক্তি ছিল না৷ তিনি পরের এক বছর বাড়িতেই বন্দী জীবন কাটান৷ ১৯৩৯ সালে তিনি প্রকৃত মুক্তি লাভ করেন৷ ১৯৪১ সালের মে মাসে গান্ধীজীর ভারত ছাড় আন্দোলনে যোগদানের প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার হন তিনি এবং চিটাগাং জেল, হিজলি বন্দী শিবির, ঢাকা জেল ও খকশি বন্দী শিবিরে তাঁকে আটক রাখা হয়৷ ছাড়া পান '৪৫ সালের শেষের দিকে। '৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তান সরকার সিকিউরিটি এ্যাক্ট অনুযায়ী বিনোদবিহারী চৌধুরীকে বিনা বিচারে এক বছর কারাগারে আটকে রাখে। ব্রিটিশ-ইন্ডিয়ান জেলে বন্দী থাকার সময় তিনি মহাত্মা গান্ধীর অনুসারী হন৷

  ৫২' ও '৭১ এর আন্দোলন
trans
১৯৩০ সালে মাস্টারদা সূর্যসেনের বিপ্লবী দলে ঢোকার আগে থেকেই যে দেশপ্রেম তাঁর মধ্যে অঙ্কুরিত হয়েছিল তা দিন দিন বিস্তারিত হয়েছে। অবিরাম দেশের জন্য কাজ করে গেছেন তিনি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের পর '১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা। '৫২-র ভাষা আন্দোলন প্রসঙ্গে স্মৃতিকাতর হয়ে উঠলেন বিনোদবিহারী, "আমি তখন ছিলাম আইনসভার সদস্য। সে দিন ফরাশগঞ্জ থেকে ২টার সময় আইনসভায় যোগদানের জন্য রিকশা করে আসছিলাম। মেডিকেল কলেজের সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিন-চারজন ছেলে আমাকে রিকশা থেকে নামিয়ে বলল, আপনাকে যেতে দেব না। দেখে যান কিভাবে আমাদের লোকজনদের হত্যা করা হয়েছে। ওরা একটা ঘরে নিয়ে বরকতের লাশ দেখাল। বিকৃত হয়ে গেছে চেহারা। তারপর তাদের বললাম, আমরা তো তোমাদেরই লোক। মুসলিম লীগ দেশ চালাচ্ছে। আমাকে যদি অ্যাসেম্বলিতে যেতে না দাও, তাতে তো তাদেরই লাভ হবে বরং সেখানে গিয়ে বললে সারা বিশ্ব শুনবে। তখন তারা বুঝল এবং আমাকে ছেড়ে দিল। সে দিন আমরা এই বর্বরতার বিরুদ্ধে অ্যাসেম্বলিতে কঠোর প্রতিবাদ করেছিলাম।" ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে ভারতে গিয়ে তরুণ যোদ্ধাদের রিক্রট করে ট্রেনিংয়ে পাঠিয়েছেন বিনোদ বিহারী। মুক্তিযুদ্ধের সময় রাইফেল হাতে নিতে পারেননি বটে কিন্তু ক্যাম্পে ক্যাম্পে গিয়ে তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছেন৷

  এখন কেমন আছেন
trans
এখন তাঁর বয়স ৯০ - এর উপরে, কিন্তু মনেপ্রাণে, চাল-চলনে এখনো তিনি তরুন। এই বয়সে এসেও নানা সামাজিক কর্মকান্ডে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। এখনো নিয়মিত ব্যাচ করে ছাত্রদের পড়ান। '৫৮ সালে রাজনীতি ছাড়ার আগে প্রতিটি আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল বিনোদবিহারী চৌধুরীর। পেশা হিসেবে শিক্ষকতা শুরুর পর নিজেকে রাজনীতি থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তিনি। প্রবর্তক বিদ্যাপীঠ, সাধারণ ব্রাহ্ম সমাজ, মাস্টারদা সূর্যসেন স্মৃতির, জালালাবাদ স্মৃতি সমিতিসহ আরো বেশকিছু সংগঠনের সভাপতি হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন এবং নিয়মিত এসব সংগঠনের সভা-সমিতি, মিটিং করছেন।

এত সবের মধ্যেও এখনো ভুলে যাননি তিনি সেইসব দিনের কথা। প্রতিদিন সকাল বেলা উঠে হাঁটতে হাঁটতে চলে যান চট্টগ্রামের জে এস সেন হলের সামনে। সেখানে ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবীদের আবক্ষ মুর্তিগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানান জালালাবাদ যুদ্ধের শেষ জীবিত যোদ্ধা ও সাক্ষী বিনোদবিহারী চৌধুরী। মনের মধ্যে ছায়াচিত্রের মতো ভেসে উঠে এক একটা দৃশ্য, কানে ভাসে বিপ্লবের মন্ত্র, নিজের অজান্তেই চোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে তাঁর।

 এক নজরে বিনোদ বিহারী চৌধুরী
trans
নাম : শ্রী বিনোদবিহারী চৌধুরী
পিতা :স্বর্গীয় কামিনীকুমার চৌধুরী
মাতা : স্বর্গীয়া রামা চৌধুরী
জন্ম : তারিখ ১০ জানুয়ারী (১৯১১)
স্ত্রী : বিভা চৌধুরী (বেলা)
ছেলে : বিবেকান্দ্র চৌধুরী

 কর্ম ও রাজনৈতিক জীবন
trans
১৯৩০ সালে কংগ্রেস চট্টগ্রাম জেলা কমিটি সহ-সম্পাদক, ৪০-৪৬ বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস নির্বাহী কমিটির সদস্য, ৪৬ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম জেলা কমিটি, ১৯৪৭ সালে ৩৭ বছর বয়সে পশ্চিম পাকিস্তান কংগ্রেসের সদস্য হন তিনি। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক আইন জারির মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলকে বেআইনি ঘোষণা করলে রাজনীতি থেকে অবসর নেন তিনি৷ কিন্তু যাঁর শিরায় শিরায় বিপ্লবী স্রোতের ঢেউ খেলে, তিনি কি শান্ত,স্থির,নীরব জীবন বেছে নিতে পারেন! আর তাই তো এত বছর পর জীবনের এই পড়ন্ত বেলায় এসে তিনি আবারও সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ জাতির এই সংকটময় মুহুর্তে তিনি নীরব নিশ্চুপ বসে থাকতে পারলেন না৷ সিদ্ধান্ত নিলেন এই ৯৭ বছর বয়সেই নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন৷ এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি এই বয়সেও আমি জাতির উপকারে আসতে পারি৷ হতে পারি জাতির পথ প্রদর্শক৷ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত আমি আমার মূলনীতি সমূহ প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে যাব৷ জাতির জন্য অবিরাম কাজ করব৷ আমি দেখতে পাচ্ছি আমার দেশের জনগন অত্যাচারিত হচ্ছে৷ তাদের উপর অন্যায় চলছে৷ তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি নিগৃহীত লাঞ্চিত জনগনের জন্য আমাকে আবার যুদ্ধ করতে হবে এবং আরো কঠিন সংগ্রাম করতে হবে৷ কেউ আমার পথ রোধ করতে পারবে না৷ কোন অশুভ শক্তি আমাকে থামাতে পারবে না৷

মাঝে তিনি ১৯৩৯ সালে দৈনিক পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসাবে তাঁর কর্ম জীবন শুরু করেন৷ এরপর ১৯৪০ সালে চট্টগ্রাম কোর্টের একজন আইনজীবি হিসাবে অনুশীলন শুরু করেন৷ কিন্ত অবশেষে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার জীবনে শিক্ষকতাকেই তিনি পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন৷

  সম্মাননা
trans
১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় প্লাজা উদযাপন পরিষদ সমাজসেবী হিসেবে, ১৯৮৮ সালে চট্টলা ইয়ুথ কেয়ার দেশ সেবক হিসেবে, ১৯৯৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় সংহতি পরিষদ কর্তৃক, ১৯৯৮ সালে দৈনিক ভোরের কাগজ, ঢাকা, দৈনিক জনকন্ঠ, ঢাকা, চট্টগ্রাম পরিষদ কলকাতা কর্তৃক সেবাকর্মী হিসেবে সম্মাননা পান। ২০০১ সালে বিনোদবিহারী চৌধুরীকে স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়।

লেখক : হিমেল চৌধুরী

 
trans
 
Gunijan

Content on this site is licensed under Creative Commons Attribution-Noncommercial 3.0 Unported.
© 2010 All rights of Photographs, Audio & video clips and softwares on this site are reserved by
/ .