<bgsound src="flash/guni.wav">
 
Links
 
এ পর্যন্ত পড়েছেন
জন পাঠক
 
 
সর্বমোট জীবনী 325 টি
ক্ষেত্রসমূহ
সাহিত্য ( 37 )
শিল্পকলা ( 18 )
সমাজবিজ্ঞান ( 8 )
দর্শন ( 2 )
শিক্ষা ( 17 )
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ( 8 )
সংগীত ( 11 )
পারফর্মিং আর্ট ( 14 )
প্রকৃতি ও পরিবেশ ( 2 )
গণমাধ্যম ( 8 )
মুক্তিসংগ্রাম ( 156 )
চিকিৎসা বিজ্ঞান ( 3 )
ইতিহাস গবেষণা ( 1 )
স্থাপত্য ( 1 )
সংগঠক ( 8 )
ক্রীড়া ( 6 )
মানবাধিকার ( 2 )
লোকসংস্কৃতি ( 1 )
নারী অধিকার আন্দোলন ( 2 )
আদিবাসী অধিকার আন্দোলন ( 1 )
যন্ত্র সংগীত ( 0 )
উচ্চাঙ্গ সংগীত ( 1 )
আইন ( 1 )
আলোকচিত্র ( 3 )
সাহিত্য গবেষণা ( 0 )
ট্রাস্টি বোর্ড ( 12 )
নেত্রকোণার গুণীজন
উপদেষ্টা পরিষদ
গুণীজন ট্রাষ্ট-এর ইতিহাস
"গুণীজন"- এর পেছনে যাঁরা
Online Exhibition
 
 

GUNIJAN-The Eminent
 
জামেলা খাতুন (পাবনা )
 
 জামেলা খাতুন
trans
তখন বর্ষাকাল। দিন-তারিখ ঠিক মনে নেই জামেলা খাতুনের। তিনি ঘরের কাজকর্ম করছিলেন। দেড় মাসের ছেলেটা তখন কোলে। তিন মেয়ের পর জামেলার ছেলে হয়েছে। যুদ্ধের মধ্যেই ছেলেটার জন্ম। হঠাৎ করেই গ্রামের লোকজন দৌড়াদৌড়ি শুরু করলো ‘মিলিটারি আসছে, মিলিটারি আসছে’ বলে। এরকমটা হয়, যুদ্ধের শুরু থেকেই জামেলা দেখে আসছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর লোকজন গাড়ি নিয়ে বাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে যায়। দেবোত্তর গ্রামে রাজাকাররা ক্যাম্প করেছে। সেখানেও সেনারা আসে। তখন গ্রামের লোকজন দৌড়ে খানিকটা দূরে একটা ঘন বন আছে, সেখানে গিয়ে লুকিয়ে থাকে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার পর লোকজন আবার বাড়ি ফিরে আসে। সেনারা যে সবসময় মানুষের বাড়ি আসে বা লোকজনকে ধরে নিয়ে যায়- তা নয়। তারা নিয়মিত টহলে আসে, আবার চলে যায়।

সেদিন জামেলার স্বামী বিলায়েত আলী সকালেই কাজের জন্য বাড়ি ছেড়ে গেছেন। তার মধ্যেই গ্রামে মিলিটারি আসে। আশপাশের আত্মীয়-স্বজনরা সবাই বনের দিকে দৌড়াল। জামেলা তাঁর মেয়েদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে বনে পাঠিয়ে দিলেন। নিকটাত্মীয় এক চাচা-শ্বশুর এসে জামেলাকেও তাড়া দিলেন বনে গিয়ে লুকানোর জন্য। কিন্তু জামেলা সেদিন যেতে চাইলেন না। ছেলেটা ঘরে একা ঘুমাচ্ছে। নিজের শরীরটাও খারাপ। এই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে সেদিন আর তিনি অন্যদের মতো বাড়ি ছাড়লেন না।

সারা গ্রামে কোনো মানুষ নেই। জামেলা একা বাড়িতে। তাঁর ধারণা, লোকজন বাড়ি ছেড়ে গেছে জেনে হয়তো রাজাকাররা আর সেনাবাহিনীর লোকজনকে নিয়ে এদিকে আসবে না। তিনি রান্নাঘরে গিয়ে ভাত চড়ালেন। মাঝে মাঝে গিয়ে ছেলেকে দেখে আসছেন।এর মধ্যেই একটি গুলির শব্দ শুনতে পান বাড়ির পাশে একটি ক্ষেতের মধ্যে। রান্নাঘরের বেড়ার ফাঁক দিয়েই দেখতে পান, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্য আর রাজাকাররা একটা যুবক ছেলেকে দৌড়িয়ে নিয়ে আসছে। জামেলা দেখলেন, লোকটি তাদের বাড়ির দিকেই দৌড়ে আসছে। যুবককে দৌড়াতে দৌড়াতে এনে জামেলাদের বাড়ির কাছেই ধরে ফেলে সেনারা। তারপর সেই যুবককে নিয়ে রাজাকাররা জামেলার বাড়ির পাশ দিয়ে চলে যায়। জামেলা তখন রান্নাঘরে চুপটি করে বসে আছেন। কিন্তু চুলার আগুন থেকে বাইরে ধোয়া বেরিয়ে যাচ্ছে।

জামেলা বেড়ার ফাঁক দিয়ে দেখছেন কয়েকজন রাজাকার যুবকটিকে ধরে সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তার পেছনে পাকিস্তানি সেনা সদস্যরা বন্দুক উঁচিয়ে যাচ্ছে। সেনারা উর্দু ভাষায় খুব বাজে রকমের গালাগালি করছে। জামেলার ধারণা, যেহেতু এলাকায় কোনো মানুষ নেই, তাই হয়তো রাজাকাররা কোনো মানুষের বাড়িতে ঢুকবে না। আর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গ্রামে সেনাবাহিনীর লোকজন এসেছে বটে, কিন্তু এখানে তারা কোনো জ্বালাও-পোড়াও করেনি। তবু ভয়ে সিটিয়ে আছেন জামেলা। আপদ চলে গেলেই বাঁচেন।

কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে বিপদ যে একেবারে উঠানে এসে দাঁড়াবে তা যেন ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি জামেলা খাতুন। পাকিস্তানি সেনাদের যে দলটি যাচ্ছিলো বাড়ির সামনে দিয়ে, তাদের একেবারে শেষে থাকা তিন-চারজন হঠাৎ করেই বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়ে। তাদের সঙ্গে দুজন রাজাকারও আসে। জামেলা তখন দিশেহারা। রান্নাঘর থেকে তিনি দেখছেন, সেনারা বন্দুক তাক করে তাঁর মূল ঘরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে একটা চকির উপর দেড় মাস বয়সী ছেলেটা শুয়ে আছে। সেনাদের একজন সেই ঘরে ঢুকে পড়ে, আরেকজন আসে রান্নাঘরের দিকে। রান্নাঘরটা এতো ছোট যে সেখানে লুকানোর মতো কোনো জায়গাও নেই। জামেলার সামনে ভাতের চুলায় আগুন জ্বলছে, তাঁর মনে হলো- সেখানে ঝাঁপ দিতে পারলেই বোধ হয় তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন।

খুব ধীরে ধীরে বন্দুক তাক করে একজন সেনা রান্নাঘরে ঢুকে যায়। জামেলা আর পাকিস্তানি সেনা মুখোমুখি। জামেলা নিজেকে যতোটা পারা যায় সিটিয়ে নিয়েছেন। বন্দুক তাক করেই সেই সেনা জামেলাকে ইশারায় ডাকেন, বের হতে বলেন। জামেলার যেন সেই শক্তি আর নেই। তিনি উঠতে পারছেন না। শেষে পাকিস্তানি সেনাটি এসেই জামেলার চুলের মুঠি ধরে টেনে তোলে আর গালি দিতে থাকে। বাইরে থাকা অন্য সেনারা তখন হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে। বন্দুকের গাঁদা দিয়ে প্রহার করতে করতে টেনে জামেলাকে ঘরের দিকে নিয়ে যায় পাকিস্তানি সেনারা। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনেই বোধ হয় সদ্যজাত ছেলেটা ঘুম থেকে উঠে বিকট শব্দে কান্না শুরু করে। জামেলাকে নির্যাতন করলেও পাকিস্তানি সেনা বা রাজাকাররা বাচ্চাটাকে কিছুই করেনি। গ্রামের লোকজন সবাই ছিল দূরের একটি বনে। পাকিস্তানি সেনারা চলে যাওয়ার পর তারা সবাই জামেলার বাড়িতে এসে হাজির হয়। গ্রামবাসী আহত জামেলার চিকিৎসা শুরু করে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭১ সালের নভেম্বরের শুরুতে আটঘরিয়া উপজেলার বংশিপাড়া গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন, মারা যায় অর্ধশতাধিক পাকিস্তানি সেনা। এর তিন দিন আগে আটঘরিয়ার চাঁদভা ইউনিয়নের বেরুয়ান গ্রামে মুক্তিযোদ্ধারা একটি রাজাকার বাহিনীর উপর আক্রমণ চালায়। এ সময় নয়জন রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধারা ধরে ফেলেন। পরে তাদের মেরে ফেলা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ওই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় যুদ্ধটি হয়। রাজাকার সদস্যদের মেরে ফেলার পর এর প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। খবর পেয়ে মুক্তিযোদ্ধারাও প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেয়। বংশিপাড়া চন্দ্রবর্তী নদীর তীরে সেই যুদ্ধ হয়। সেখানে ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

পাবনা শহর থেকে আটঘরিয়ার দেবোত্তর গ্রাম খুব দূরে নয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় গ্রামের শ্রমজীবী মানুষরা এলাকায় ছিলো। যুদ্ধের মধ্যেও তারা নিজের ভিটেবাড়ি ছেড়ে কোথাও যায়নি। একটু অবস্থা সম্পন্ন মানুষ নিরাপদ জায়গায় চলে গিয়েছিলেন। পাকিস্তানি মনোভাবাপন্ন লোকজন গ্রামেই থাকতো। দেবোত্তর বাজারের পাশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ক্যাম্প গড়ে তোলে। তারা গ্রামে-গঞ্জে স্থানীয় মুসলিম লীগ এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজাকার বাহিনী বানায়। তারা বন্দুক নিয়ে এলাকা পাহাড়া দিত আর মাঝে মাঝে পাকিস্তানি সেনারা গাড়ি করে এসে এলাকার পরিস্থিতি দেখে যেতো।

সারা দেশের মতো এখানেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। রাজাকাররা গ্রামের মেয়েদের ধরে ধরে সেনাদের হাতে তুলে দিয়েছে- গ্রামের যেকোনো মানুষই যেকোনো সময় এ বিপদের মধ্যে পড়তে পারে। তাই সন্ধ্যার আগেই মানুষ ঘরে ফিরে। বাড়িতে আলো বন্ধ করে রাখে। অন্ধকারে দেশকালের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন বাড়ির পুরুষ মানুষেরা। প্রতি দিনরাত তাদের অতঙ্কের মধ্যেই কাটাতে হয়। পাকিস্তানি সেনারা গ্রামের আশপাশে আসলেই নারীরা ঘর থেকে বেরিয়ে জঙ্গলে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সেনারা চলে গেলে তারা আবার ফিরে আসে। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টাই দেবোত্তর গ্রামের মানুষের এভাবে কেটেছে। আশপাশের যত গ্রাম আছে, সবার অবস্থা প্রায় একইরকম। অনেক বাড়ি থেকেই যুবক ছেলেরা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য ভারতে চলে যায়। তারা ফিরে আসার পর এলাকায় রাজাকারদের উৎপাত কিছুটা কমে আসে। কিন্তু আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রাজাকারদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সংঘর্ষ হয়।

দেবোত্তর, বিদিরপুরসহ পাবনার বিভিন্ন স্থানে জামেলার মতো আরো নারী নির্যাতিত হয়েছেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র তিনজনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কেউ কেউ চিহ্নত হয়েছেন, তবে বাস্তবতা এমন কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে নারাজ। তাঁরা একে কোনোভাবেই ‘ভাল’ কিছু মনে করেন না। স্বাধীনতাত্তোর পাবনার রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এর অন্যতম কারণ। রাজনৈতিক ভারসাম্যের কিছু পরিবর্তন ঘটলেও, সামাজিক অবস্থার কি বিশেষ কোনো উন্নতি হয়েছে। ‘ধর্ষিতা’ হিসেবে তাঁদের জন্য সমাজে যে ঘুণের বীজ আমরা বপন করেছি, তার কি কোনো ‘দিন-রাত’ ফারাক এসেছে? জামেলা সমাজের একেবারে নিচুতলার মানুষ, তার পরে নারী। এই দু্ইয়ের উপর সামাজিক-পারিবারিক নিপীড়ন চিরকালের। জামেলার জন্য নিপীড়নের আরেক অস্ত্র ছিলো তিনি ‘ধর্ষিতা’। আসলে সেই সমাজ-বাস্তবতার তো কোনো পরিবর্তন হয়নি। এর মধ্যেই জামেলা যুদ্ধের পর স্বামীর সংসারে প্রায় ৩০ বছর ছিলেন। সময়টা খুব ভাল কেটেছে কি তাঁর? জামেলা বলছিলেন, তিনি বেঁচে ছিলেন, আর তো কোথাও যাওয়ার জায়গা ছিলো না। এখন তিনি ছেলেদের সংসারে আছেন।

চলতি বছরের ১৭ নভেম্বর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তাঁদের বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি দেওয়া হয়। গেলো বছরের অক্টোবরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে প্রশাসনের। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। দেশ স্বাধীনের দীর্ঘ ৪৫ বছর পর অবশেষে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেন পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার তিন বীরাঙ্গনা। কিন্তু এখনও তাঁরা কোনো ভাতা পাননি। জামেলা খাতুনের জন্ম পাবনার এক নিভৃত পল্লীতে। গ্রামের নাম চিঙরির চর। বাবা সোলেমান প্রামানিককে দেখেননি তিনি। জামেলা যখন পেটে তখন স্বামী মারা যায় জরিনা বেগমের। মা জন্ম দিয়েছেন। কোলেই দেখেছেন মায়ের মুখ। কারণ জামেলা কোলে থাকতেই মাও মারা যায় জামেলার। ফলে মার কথা মনে নেই। তিন বোনের কোলে কোলে মানুষ হয়েছেন। সোলেমান প্রামানিকের কোনো ছেলে সন্তান ছিলো না। তাঁর জমিজমা ছিলো বেশ। কিন্তু সবাই ছোট ছিলো বলে, সেই জমি চাচাদের ভোগ-দখলে গেছে। সবার বড় বোন, বলতে গেলে তিনিই জামেলাকে বড় করেছেন। তাঁর বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর মেজো বোন সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ জামেলা খাতুন আজকাল আর তাঁদের নাম মনে করতে পারেন না।

জামেলার কোনোদিন পাঠশালা বা মক্তবে যাওয়া হয়ে উঠেনি। জীবনে বেঁচে থাকাটাই যেখানে মুখ্য, সেখানে পড়াশোনা তো অবান্তর, নারী হলে তো কথাই নেই। জামেলা নিরক্ষর। সেই যুগে এটা আহামরি কোনো ব্যাপার ছিলো না। মেয়ে অল্প বয়সেই বিবাহযোগ্য, তাড়াতাতি বিয়ে দেওয়াটাই রীতি। জামেলা নিজবাড়িতে থেকেও ছিলেন চাচার কাছে আশ্রিতের মতো। ফলে তাড়াতাড়ি বিদায় দেওয়াই ছিলো চাচার প্রধান কাজ। আর দশটা শিশুর মতো জামেলা বড় হয়ে উঠেনি। তাঁর কোনো শৈশব ছিলো না। বাবা-মা না থাকায় জামেলার শৈশব কেটেছে অবহেলায়, অনাদরে। কোনো আবদার সে কখনো কারো কাছে করেনি। একটু বড় হওয়ার পর বাড়ির চাচীদের ফুট-ফরমাশ খেটেছে। যদিও তাদের জমি বেশ ভালই ছিলো। নিত্য অভাব আর দারিদ্র্যের মধ্যেই ৮-৯ বছরে জামেলার বিয়ে হয়ে যায় পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর গ্রামে।

বিলায়েত আলীর সঙ্গে কখন বিয়ে হয়েছিলো এটা মনে করতে পারেন না জামেলা খাতুন। যেমন তিনি জানেন না, তাঁর কবে জন্ম হয়েছিলো। তবে আন্দাজ করতে পারেন, বিয়ের বছর দশেক পর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। তখন বড় ছেলে বছর দেড়েকের। স্বামী গৃহস্থ ছিলেন। বিলায়েত আলী আর জামেলা খাতুনের সংসারে দুই ছেলে আর চার মেয়ে। ছোট ছেলে আলমের সঙ্গে থাকেন জামেলা। বড় ছেলে কিসমতও পরিবার নিয়ে পাশেই থাকেন। জামেলার চার মেয়ে সাজেদা, লাইলি, এলিনা ও ইনসানের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেমেয়েরা এই অভাবের মধ্যেও মাকে দেখার চেষ্টা করেন।

তথ্য : ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে পাবনার আটোয়ারি উপজেলার দেবোত্তর গ্রামে জামেলা খাতুনের সাক্ষাতকার নেওয়া হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই লেখাটি তৈরি হয়েছে।

লেখক: চন্দন সাহা রায়

Share on Facebook
Gunijan

© 2017 All rights of Photographs, Audio & video clips and softwares on this site are reserved by .