<bgsound src="flash/guni.wav">
 
Links
 
এ পর্যন্ত পড়েছেন
জন পাঠক
 
 
সর্বমোট জীবনী 321 টি
ক্ষেত্রসমূহ
সাহিত্য ( 37 )
শিল্পকলা ( 18 )
সমাজবিজ্ঞান ( 8 )
দর্শন ( 2 )
শিক্ষা ( 17 )
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ( 8 )
সংগীত ( 10 )
পারফর্মিং আর্ট ( 12 )
প্রকৃতি ও পরিবেশ ( 2 )
গণমাধ্যম ( 8 )
মুক্তিসংগ্রাম ( 156 )
চিকিৎসা বিজ্ঞান ( 3 )
ইতিহাস গবেষণা ( 1 )
স্থাপত্য ( 1 )
সংগঠক ( 8 )
ক্রীড়া ( 6 )
মানবাধিকার ( 2 )
লোকসংস্কৃতি ( 1 )
নারী অধিকার আন্দোলন ( 2 )
আদিবাসী অধিকার আন্দোলন ( 1 )
যন্ত্র সংগীত ( 0 )
উচ্চাঙ্গ সংগীত ( 0 )
আইন ( 1 )
আলোকচিত্র ( 3 )
সাহিত্য গবেষণা ( 0 )
ট্রাস্টি বোর্ড ( 12 )
( 0 )
Hacked By leol_3t ( 0 )
নেত্রকোণার গুণীজন
উপদেষ্টা পরিষদ
গুণীজন ট্রাষ্ট-এর ইতিহাস
"গুণীজন"- এর পেছনে যাঁরা
Online Exhibition
 
 

GUNIJAN-The Eminent
 
কাজী নূর-উজ্জামান
 
 
trans
একাত্তরের মার্চে কর্নেল (অব.) কাজী নূর-উজ্জামান ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনী যখন বাঙালী হত্যা শুরু করে বিশেষত ইপিআর-এর সদস্য ও তাদের পরিবার-পরিজনের ওপর নির্বিচারে আক্রমণ চালায় তখন ইপিআর সদস্যদের পরিবার-পরিজনের আর্তনাদ তাঁকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। সেই নৃশংস দৃশ্য দেখে মেজর (অব.) কাজী নূর-উজ্জামান তাঁর পরিবারের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন হানাদারের বিরুদ্ধে আবার অস্ত্র তুলে নেওয়ার। তিনি তাঁর পরিবার-পরিজনকে ময়মনসিংহ জেলার গান্ধিনা নামক এক গ্রামে পাঠিয়ে ২৮ মার্চ তৎকালীন কর্নেল শফিউল্লাহর ব্যাটালিয়নে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্নেল এমএজি ওসমানী কাজী নূর-উজ্জামানকে নিজের সাথে রেখে বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব অর্পণ করেন। জুলাই মাসে তিনি ৭নং সেক্টরে কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পান।

অসীম সাহসী স্বাধীনচেতা এই মানুষটির জন্ম ২৪ মার্চ ১৯২৫ সালে। পিতার নাম খান সাহেব কাজী সদরুলওলা, মাতার নাম রতুবুন্নেসা। কলকাতা সেন্ট-জেভিয়ার্স কলেজের কেমিস্ট্রির ছাত্র থাকা অবস্থায় অনার্স পরীক্ষা শেষ না করেই বাবার অমতে তিনি ১৯৪৩ সালে নেভিতে ভর্তি হন। নেভিতে চাকরিরত অবস্থায় ব্রিটিশ অফিসারদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিরোধ ঘটায় দু-দুবার কোর্ট মার্শাল হয়; অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার কারণে সেই কোর্ট মার্শাল থেকে তিনি রেহাই পান। ১৯৪৬ সালে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর আহ্বানে নেভি থেকে সেনাবাহিনীতে ট্রান্সফার নেন।

১৯৪৯ সালে ইংল্যান্ডের রয়েল আর্টিলারি স্কুল থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে কাশ্মির যুদ্ধে জেলাম সেক্টরে যোগদান করেন। ১৯৫০ সালে ক্যাডেট ট্রেনিং স্কুলে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। ১৯৫৬ সালে মেজর হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৫৮ সালে স্টাফ কলেজে অত্যন্ত মনোযোগের সাথে অধ্যয়ন শেষে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে যুদ্ধ কোনো সমস্যার সমাধান করেনি এবং ভবিষ্যতেও যুদ্ধ দিয়ে কোনো রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ১৯৬২ সালে ইপিআইডিসিতে বদলি হয়ে আসেন। এখানেও পশ্চিম পাকিস্তানি আমলাদের সাথে তাঁর মতবিরোধ দেখা দেয়। আমলাদের ব্যবহারে অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি ১৯৬৯ সালে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন এবং ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। কর্নেল কাজী নুর-উজ্জামান আর্মিতে চাকরিকালীন সময় থেকেই বিশেষ করে ১৯৬২ সাল থেকে এদেশের প্রগতিশীল শিক্ষক চিন্তাবিদ লেখক বুদ্ধিজীবীদের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ড. আহমদ শরীফ যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস ফ্যাকাল্টির ডিন তখন থেকেই কাজী নূর-উজ্জামান ড. আহমদ শরীফের স্বাতন্ত্র্য-বৈশিষ্ট্যের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং তাঁর সান্নিধ্যে আসেন। ড. আহমদ শরীফের সমাজচিন্তা, স্পষ্টবাদিতা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তার জন্য তিনি তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন। ড. শরীফ প্রতিষ্ঠিত স্বদেশ চিন্তা সঙ্ঘের সাথেও তিনি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত হয়ে ড. আহমদ শরীফের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাজ করেছেন। কর্নেল কাজী নূর-উজ্জামান বীরউত্তম সাম্রাজ্যবাদ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে একসময় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখেছেন।

কর্নেল (অব.) কাজী নূর-উজ্জামান একজন প্রতিবাদী মানুষ ছিলেন। দেশী-বিদেশী সকল প্রতিক্রিয়াশীল বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ আন্দোলনকামী জনতাকে উদ্বুদ্ধ করেছে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ লেখক শিবির-এর অন্যতম সদস্য, ছিলেন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ফ্রন্টের অগ্রভাগে। কর্নেল (অব.) কাজী নূর-উজ্জামান বীরউত্তমকে আহ্বায়ক করে প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠনগুলো গড়ে তুলেছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক কমিটি। ১৯৮৫ সালে গঠিত মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিকাশ কেন্দ্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কর্নেল (অব.) কাজী নূর-উজ্জামান বীরউত্তম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় কমিটি আয়োজিত গণআদালতের অন্যতম বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন এই সাহসী যোদ্ধা। তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে সাপ্তাহিক নয়াপদধ্বনি। 'একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়' গ্রন্থের অন্যতম সম্পাদক কর্নেল (অব.) কাজী নূর-উজ্জামান বীরউত্তম।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ-'মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতি', 'বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি' এবং 'স্বদেশ চিন্তা' সুধীজন কর্তৃক সমাদৃত।

কাজী নূর-উজ্জামান ২০১১ সালের ৬ মে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

তথ্যসূত্র: 'একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ- একজন সেক্টর কমান্ডারের স্মৃতিকথা'-লেখক কর্নেল (অব.) কাজী নূর-উজ্জামান।

লেখক : মৌরী তানিয়া

Share on Facebook
Gunijan

© 2019 All rights of Photographs, Audio & video clips and softwares on this website are reserved by .